জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দেশগুলো

২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে উদ্বেগ
২০২২ সালে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ প্রকৃতির অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বন্ধে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। ‘প্রকৃতির জন্য প্যারিস চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত ওই সমঝোতায় ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্য ২৩টি বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ, দূষণ কমানো, ক্ষতিকর আগ্রাসী প্রজাতি নিয়ন্ত্রণ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
তবে এবারের সম্মেলনের আগে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর প্রায় সবকটি অর্জনের জন্য বর্তমান উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
এ কারণে এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্যোগ জোরদার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ফনা অ্যান্ড ফ্লোরার প্রতিনিধি ক্যাথরিন ওয়েলার বলেন, বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য দ্রুত হুমকির মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃতি রক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়।
সংরক্ষণ তহবিলে অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থা
সম্মেলনের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থের নতুন উৎস নিশ্চিত করা। সরকারি বাজেটের ওপর চাপ বাড়ায় এ বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও জটিল হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনসহ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী উদীয়মান দেশগুলোকে প্রকৃতি সংরক্ষণে অর্থায়নের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের ‘ক্যালি ফান্ড’ কার্যকর করার উদ্যোগও বাধার মুখে পড়েছে। উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীবের জিনগত তথ্য ব্যবহার করে মুনাফা অর্জনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যয় করাই এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।
২০২৫ সালের শুরুতে চালু হওয়া তহবিলটির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রকৃতি সংরক্ষণে বছরে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে জমা হয়েছে মাত্র প্রায় ১০ হাজার ডলার।
এর আগে ২০২৪ সালে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত জীববৈচিত্র্য সম্মেলনেও সংরক্ষণ কার্যক্রমের অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে রোমে পুনরায় আলোচনা শুরু হলে একটি সমঝোতা হয়।
এদিকে শুক্রবারের আলোচনায় ২০২৮ সালে পরবর্তী জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের আয়োজক দেশ নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পানামা ও ইকুয়েডরের মধ্যে একটি দেশকে নির্বাচন করার কথা রয়েছে।

