খরায় পুড়ছে আমনের খেত

চরওয়াপদা ইউনিয়নের কৃষক মো. মুরাদ উদ্দিন বলেন, ‘দুই মাসের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি না থাকায় আমার সাড়ে তিন একর জমির ফসল ঝলসে গেছে। যেটুকু আছে, সেটুকুতে ফলন তেমন হয়নি। এখন যে অবস্থা, তাতে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।’
সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘ফসলের যে অবস্থা তাতে এবার ধান ঘরে তোলার আশা ছেড়ে দিয়েছি। এ বছরের জুলাইয়ে অতিবৃষ্টির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে আবাদ শুরু করতে পারিনি। আবার যখন ফলন আসার কথা, তখন বৃষ্টি না থাকায় গাছ পুড়ে গেছে।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর ধান আবাদে আমরা ধারদেনা করে থাকি। আবাদের জন্য প্রতিজন শ্রমিক নিতে হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে। এরপর সার, কীটনাশকের খরচ আছে। এখন দূর থেকে পানি আনতে হলে প্রতি একরে পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। এত টাকা বিনিয়োগ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। সে হিসাবে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫০ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে পানির প্রাকৃতিক উৎস বাড়ানো এবং লবণসহিষ্ণ জাত আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছি। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিরও কাজ চলছে। চূড়ান্ত তালিকা হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে প্রণোদনা ও সহযোগিতা করা হবে।’

