মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: হাউস ও সিনেট উভয় কক্ষেই হারের পথে ট্রাম্পের দল

ফ্লোরিডার প্রাথমিক ফলেও প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। ট্রাম্পের দলকে সুবিধা দিতে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও কয়েকটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান আনা পলিনা লুনা নিজের আসনে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অথচ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওই আসনে ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
সিনেটে গুরুত্বপূর্ণ জয় ডেমোক্র্যাটদের
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭ টি। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা পুনরুদ্ধার করতে পারেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনায় ৬৯ বছর বয়সী রয় কুপার রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। অঙ্গরাজ্যটিতে ট্রাম্প তাঁর তিনটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারেই জয় পেয়েছিলেন। ফলে কুপারের এই জয় সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভাঙার প্রচেষ্টায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই মেয়াদে নর্থ ক্যারোলিনার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করা কুপার প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অঙ্গরাজ্য থেকে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন।
নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কুপার। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হোয়াটলি ছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও কট্টর সমর্থক। কুপার অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়ই মতবিরোধে জড়াতেন টিলিস।
জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছেন ৩৯ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ। আসনটি দখলে নেওয়ার আশা করেছিল রিপাবলিকানরা। অসফকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ভোট হয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে নিট তিনটি এবং সিনেটে নিট চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে চাপে পড়বেন ট্রাম্প
নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ, নথিবিহীন অভিবাসীদের ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করার সুযোগ পাবে তারা।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের বিচার বিভাগীয় এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৪ বছর বয়সী ভোটার টেইলর কুক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বাড়িভাড়া, মুদি পণ্যের দাম, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল এবং সম্পত্তিকর ক্রমাগত বাড়ছে। আমি কংগ্রেসে এমন প্রতিনিধিদের চাই, যারা এসব ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।’
মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া শেষ মুহূর্তের এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি তাঁর আরোপ করা শুল্ক, অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের আমেরিকাকে মহান রাখতে হবে। এখন আমরা মহান। দুই বছর আগে আমরা ভয়াবহ অবস্থায় ছিলাম।’
অন্যদিকে, মায়ামির ৭০ বছর বয়সী রিপাবলিকান ভোটার মারু রেস্ত্রেপো এএফপিকে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ‘অনেক বেশি সমাজতান্ত্রিক’ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, নির্বাচনে প্রতিকূল ফলাফল এলে ট্রাম্প তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

