ভুয়া সন্দেহে তিনজন পুলিশকে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, টিউশন শেষে রেসকোর্সের গলি দিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে অসদাচরণও করা হয় বলে দাবি করেন সিয়াম। ঘটনাস্থলে থাকা অপর দুজনও নিজেদের পরিচয় দিতে পারেননি।
তবে এএসআই শ্যামল সাহার ভাষ্য, তারা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ওয়াকি-টকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলেছিল।
শ্যামল সাহা বলেন, পরিস্থিতি দেখে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
পরে শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে গাড়িতে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। ফলে উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল।
প্রক্টর আরও বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা যৌক্তিক জায়গায় এসে বিষয়টির সমাধান করেছি এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস এশিয়া পোস্টকে বলেন, উভয়েরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে যা হয়েছে, তখন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায়, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিলেও বিষয়টি সমাধান করা যেত। ঘটনার পর বাসে করে নিয়ে যাওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

