২৩ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে সাফজয়ীদের মিলনমেলা

কেউ জিতেছিলেন ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, কেউ ২০১০ সালের এসএ গেমসের সোনা। বাংলাদেশের ফুটবলের সেই দুই গৌরবময় অধ্যায়ের নায়করা আবারও এক হলেন একই মাঠে। বয়স বেড়েছে, অনেকেই ফুটবল ছেড়েছেন বহু বছর আগে। তবে জাতীয় স্টেডিয়ামে বল পায়ে নামতেই যেন ফিরে এলেন পুরোনো দিনে। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দুই চ্যাম্পিয়ন দলের এই মিলনমেলায় ছিল স্মৃতিচারণ, আবেগ আর নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। প্রীতি ম্যাচে ২০০৩ সালের সাফজয়ীদের ২-১ গোলে হারিয়েছে ২০১০ সালের এসএ গেমসে সোনাজয়ী দল।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এই প্রীতি ম্যাচের। দুই দলের ফুটবলাররা মাঠে নামেন তাদের ঐতিহাসিক সাফল্যের সময়কার জার্সির আদলে তৈরি পোশাক পরে। ৬০ মিনিটের ম্যাচে জয়-পরাজয়ের লড়াই থাকলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি অতীতকে ফিরিয়ে আনা এবং বর্তমান জাতীয় দলকে উৎসাহ দেওয়া।
মাঠে উপস্থিত ছিলেন আলফাজ আহমেদ, আরমান মিয়া, বিপ্লব ভট্টাচার্য্য, এনামুল হক, জাহিদ হাসান এমিলি, মামুনুল ইসলামসহ দুই প্রজন্মের পরিচিত ফুটবলাররা। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মাঠে নেমে তাদের পায়ের কারিকুরি, পাস ও আক্রমণে ফুটে ওঠে পুরোনো দিনের ঝলক।
ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বাংলাদেশের ফুটবলের দুটি ঐতিহাসিক সাফল্যেরই অংশ ছিলেন সাবেক এই গোলরক্ষক। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর ২০১০ সালের এসএ গেমসেও সোনার পদক জিতেছিলেন তিনি। এবার দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে তাই তাঁকে খেলতে হলো দুই পক্ষের হয়েই।
প্রথমার্ধে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের ৯ নম্বর জার্সি পরে আক্রমণভাগে খেলেন আমিনুল। বিরতির পর ২০১০ সালের সোনাজয়ী দলের ১ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামেন তিনি। অবশ্য গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত আমিনুল এদিন গোল করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।
মাঠের লড়াইয়ে প্রথমে এগিয়ে যায় ২০১০ সালের এসএ গেমসে সোনাজয়ী দল। নাসিরুল ইসলাম নাসিরের গোলে পাওয়া সেই লিড অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করে ২০০৩ সালের সাফজয়ীদের সমতায় ফেরান আলফাজ আহমেদ। পরে মিঠুন চৌধুরীর গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে অপেক্ষাকৃত তরুণ দলটি।
শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন আমিনুল। কিন্তু তার নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। ফলে জয় পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি এসএ গেমসের সোনাজয়ীরা। তবে এই ম্যাচে ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল সাবেক তারকাদের পুনর্মিলন।
বাংলাদেশের ফুটবলে ২০০৩ সালের সাফ জয়ের স্মৃতি এখনো বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। সেবার জাতীয় স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি ঠেকিয়ে শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন আমিনুল।
সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি সাবেক এই গোলরক্ষক। ফাইনালের টাইব্রেকারে মালদ্বীপের দ্বিতীয় শট ঠেকানোর পর সুজনের নেওয়া শেষ শট জালে জড়াতেই পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়েছিল বলে স্মরণ করেন তিনি।

