রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
হুমকি বাস্তবায়ন চীনের, সম্প্রচার থেকে ‘উধাও’ রিয়াল-এমবাপ্পেব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইকের জন্য নতুন নীতিমালাখুলনায় দোকানে ঢুকে তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যাবাদাম বিক্রেতা হাসানকে স্কুলে ফিরিয়ে আনলেন ডিসি ফরিদাসাজেকে আবারও দুই পক্ষের ঘণ্টাব্যাপী গুলিবিনিময়সাংবাদিক আলিফ হত্যা: গ্রেপ্তার দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিআশাশুনি থানাকে দালাল ও হয়রানিমুক্ত করতে চান নতুন ওসিসেক্রেটারিকে জড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ‘আজগুবি’, দাবি জামায়াতেরএইচএসসি পাস করলেন জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, ‘বিতর্কে’ কমিটি বিলুপ্তমিশিগানে সিনেটর প্রার্থী আব্দুলের নির্বাচনি প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের তথ্য, অফিস সহায়ক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের তথ্য, অফিস সহায়ক গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে অবৈধ নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তন নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। এসব অভিযোগে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামাল শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সংরক্ষিত ফাইল পরীক্ষা করতে গিয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষকদের সই জাল করে মাস্টাররোলে লোকবল নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের আলামত পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি।

আটক ও গ্রেফতার

এর আগে গত বুধবার রাতে শাহজামাল শেখকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে শাহজামালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটি ও কম্পিউটারে নথির সন্ধান

গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে এই কমিটির প্রধান করা হয়।

কমিটি তদন্তের স্বার্থে শাহজামাল শেখের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা শুরু করে। সেখানে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টির বাইরেও বিদ্যালয়ের নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তন সংক্রান্ত নানা নথিপত্র পাওয়া যায় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সই জাল ও বেতন জালিয়াতির অভিযোগ

বিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, শাহজামাল শেখ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে লোকবল নিয়োগ দিয়ে আসছিলেন। জব্দ করা কম্পিউটারে এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু নথির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনি অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও কম্পিউটার অপারেটর পদের বেতন তুলে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে বেতন-ভাতার নথি, পদসংক্রান্ত অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিবিড়ভাবে যাচাই করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাস্টাররোলে ঠিক কতজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পরিচয় কী, এসব নিয়োগের পেছনে কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছিল কি না এবং কোন কোন সাবেক প্রধান শিক্ষকের সই জাল করা হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে কম্পিউটারে পাওয়া ফাইলগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত হতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

ভর্তি ও শিফট বদলের অনিয়ম

নিয়োগসংক্রান্ত নথির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও শিফট বদল সংক্রান্ত তথ্যও শাহজামালের কম্পিউটারে মিলেছে। এসব তথ্যের সূত্র ধরে ভর্তি বাণিজ্যের মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কোনো শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল কি না, বিধিবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার নেপথ্যে আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

প্রশ্ন ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্তে নেমে প্রশাসনিক নানা অনিয়মের তথ্য সামনে আসায় পুরো বিষয়টি এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ করা নথিপত্র তৈরির সময়কাল, সেগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার ওপরই নির্ভর করছে তদন্তের চূড়ান্ত অগ্রগতি।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...