আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির নির্বাচন আজ: ৮ পদে লড়ছেন ২০ প্রার্থী

উৎসবমুখর পরিবেশ আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিবার্ষিক নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বণিক সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো আলমডাঙ্গা শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে এখন বইছে ভোটের হাওয়া। ৮টি পদের বিপরীতে মোট ২০ জন প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। তবে দুটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ইতোমধ্যে ১২ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী তিন বছর স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্বের দায়িত্ব কাদের হাতে উঠবে, তা ব্যালটের মাধ্যমেই নির্ধারণ করবেন ভোটাররা।
শীর্ষ দুই পদ ঘিরে মূল লড়াই
ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন লড়ছেন ছাতা প্রতীক নিয়ে, আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হাফিজুর রহমানের প্রতীক দোয়াত-কলম। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ আলা উদ্দিন মিয়া (আনারস প্রতীক) এবং খন্দকার আব্দুল্লাহ-আল মামুন (বাইসাইকেল প্রতীক)।
অন্যান্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচ প্রার্থীর লড়াইয়ে জমে উঠেছে মাঠ। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাহাঙ্গীর আলম (গোলাপ ফুল), বদর উদ্দিন (হাঁস), রবিউল করিম হাবিল (ডাব), শরিফুল ইসলাম (বাঘ) এবং সাইদুল ইসলাম (টিউবওয়েল)।
কোষাধ্যক্ষ পদে মোরগ প্রতীক নিয়ে বেলাল হুসাইন ও হাতি প্রতীক নিয়ে রেজাউল করিম রেজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লড়ছেন রাশিদুল ইসলাম (চেয়ার) এবং সাইদুল ইসলাম বুড্ডু (মই)। দপ্তর সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শফিউল আলম মিলন (কলম) ও সঞ্জু আহমেদ (টিয়াপাখি)। ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাসুদ রানা মাসুম (ফুটবল) এবং শামীম রেজা (আম) মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া ধর্ম সম্পাদক পদের তিন প্রার্থী হলেন আনিসুর রহমান (পানির বোতল), জাহিদুল ইসলাম (পাঞ্জাবি) ও রেজাউল করিম কাবিল (মিনার)।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১২ জন
সহ-সভাপতি পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় ইফতেকার আহমেদ ও হাজী রফিকুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদের জন্য ১১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাকি ১০ প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাংকার শহিদুল ইসলাম। প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন এমএস জোহা কলেজের সহকারী অধ্যাপক একেএম ফারুক। ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।

