সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প, দাবি রাজনৈতিক ভাষ্যকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প, দাবি রাজনৈতিক ভাষ্যকারের

ইরানে কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। তার দাবি, ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে কার্লসন এসব দাবি করেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তিনি মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এলাকার কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা ওই এলাকায় ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে।

কার্লসন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ‘টাকার কার্লসন টুনাইট’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন। বর্তমানে এক্সে নিজস্ব রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

কার্লসনের দাবি, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরে সুরক্ষিত। ফলে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, সামরিকভাবে ওই স্থাপনায় হামলার একমাত্র উপায় হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে কার্লসন লেখেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) এ বিষয়ে প্রতিদিনই ট্রাম্পকে ফোন করছেন।’

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থের অভিযোগ

কার্লসনের দাবি, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক টিকে থাকার স্বার্থেই তিনি ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেতানিয়াহুর। তা না হলে তিনি ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তদন্ত ও সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।

কার্লসন আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।

তার অভিযোগ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুসরণ করছেন। এ ছাড়া দোহায় তৈরি হওয়া ইরানসংক্রান্ত শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেও দাবি করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

কার্লসনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। তার অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহু গোপনে আবুধাবি সফর করে ইরানে চূড়ান্ত হামলার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন চেয়েছিলেন। তবে আমিরাতের কর্মকর্তারা তাতে রাজি হননি।

সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে কার্লসন বলেন, আট মাসের সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সারবাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দাবি, শুধু অক্টোবর মাসেই হরমুজ প্রণালিতে বিশ্বের প্রায় ৮৫০টি তেলবাহী সুপারট্যাংকারের মধ্যে ১১টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানির সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তার আশঙ্কা।

কার্লসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক হামলা চালালে তা বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। এতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে পারমাণবিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এবং উত্তর কোরিয়া সিউলে হামলা চালাতে পারে।

তিনি লেখেন, ‘প্রথম পারমাণবিক হামলার পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে। সেই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত এবং চূড়ান্ত।’

এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন এনেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার সহজ করেছে বলেও অভিযোগ করেন কার্লসন।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...