যশোর বোর্ডে ১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, শতভাগ সফলতা মাত্র তিনটিতে

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। বিপরীতে সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র তিনটিতে।
বোর্ডের গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাফল্যের চূড়ায় থাকা শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিন দিন কমছে এবং বাড়ছে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা। ২০২৩ সালে বোর্ডে শতভাগ অনুত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল ৭টি, আর শতভাগ পাস করেছিল ১০টি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একই (৭টি) থাকলেও শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩টিতে। তবে ২০২৫ সালে এসে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে; সে বছর এক লাফে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে হয় ২০টি, আর শতভাগ পাসের তালিকায় টিকে ছিল কেবল ৫টি প্রতিষ্ঠান। চলতি ২০২৬ সালে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান কিছুটা কমে ১৬টিতে এলেও শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও সংকুচিত হয়ে ঠেকেছে মাত্র তিনটিতে।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা
এবার একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৯ জন পরীক্ষার্থী ছিল সাতক্ষীরার এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজে। এরপরেই রয়েছে নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট, যেখানে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া খুলনার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৭ জন, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজের ১৯ জন, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্দি কলেজের ১৫ জন, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন এবং খুলনার ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজের ১১ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকেই অকৃতকার্য হয়েছেন।
তালিকায় থাকা বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ (৮ জন), যশোরের সবুজ পল্লী কলেজ (৭ জন), খুলনার মডেল মহিলা কলেজ (৩ জন), কপিলমুনি সহচারী বিদ্যা মন্দির (৩ জন), সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩ জন) এবং মাগুরার গোপিনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন)। এছাড়া মেহেরপুরের মোরকা জাগরণ কলেজ, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ ও খুলনার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ থেকে মাত্র একজন করে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছেন।
শতভাগ পাসের তালিকায় যারা
অন্যদিকে যে তিনটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের গৌরব ধরে রেখেছে, সেগুলো হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (৪৩ পরীক্ষার্থী), খুলনার বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬১ পরীক্ষার্থী) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৩ পরীক্ষার্থী)।
বোর্ডের কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ফলাফলের এই চিত্র নিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, ২০২৫ সালেও শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বক্তব্য শোনা হয়েছিল। সেই কারণগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরও শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কাছে কৈফিয়ত তলব করে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অধিভুক্তি নবায়ন বাতিল বা বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

