যোগ্য কাজ নেই ৬০ শতাংশ স্নাতকের, অর্থনৈতিক সুবিধা মিলবে আর ১৯ বছর

মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাব
২০৪৫ সালেই কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করবে। কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতি না হলে ধনী দেশে পরিণত হওয়ার আগেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবাসহ বাড়তি বড় দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাব। বর্তমানে দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশই (৫ কোটি ৮০ লাখ) অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। এসব কাজে সাধারণত নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি কিংবা চাকরির নিরাপত্তা থাকে না। কর্মীরা যেকোনো সময় কাজ হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।
মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক
কর্মসংস্থানের এই অনানুষ্ঠানিকতা শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসা বা ছোট প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানেও মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অনানুষ্ঠানিক খাতের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, বিকল্প বা নিয়মিত চাকরি না পেয়ে তারা ব্যবসা বা নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করেছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের অনানুষ্ঠানিক খাত জরিপ বিশ্লেষণ করেছে বিশ্বব্যাংক।
আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কর্মসংস্থান তৈরির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানে বছরে কর্মসংস্থান বাড়ছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে। যেখানে বিশ্বের ৮২টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের গড় হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
কর্মসংস্থানের এই দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কম উৎপাদনশীলতা। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রমিক প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির হার বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় কম। পর্যটন ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট খাতেও কর্মসংস্থান বাড়ছে ধীরগতিতে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশ নতুন কর্মী নেওয়ার বদলে কর্মীর সংখ্যা কমাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশে ২০৫১ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়ে মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তখন বাংলাদেশ বয়স্ক সমাজে পরিণত হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় হাতে সময় অনেকটা বেশি (১৯ বছর) থাকলেও এই সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ভারতের হাতে এই সুযোগ কাজে লাগানোর সময় মাত্র আট বছর, আর ভুটানের পাঁচ বছর।

